আঞ্জুমান ইসলাম।
প্রতিমা দাস বলে, জামাতের চেয়ে তারেক জিয়া ভালো।
আমি বলি: বিএনপির চেয়ে জামাত ভালো।
আমার কথা শুনে প্রতিমা দাস বিরক্ত হয়। আমাকে বুঝাতে চেষ্টা করে জামাত ক্ষমতায় এলে দেশের অবস্থা কত ভয়াবহ হবে! হিন্দুদের অবস্থা কত খারাপ হবে! বাংলাদেশ পুরোপুরি ইসলামিক রাষ্ট্র হয়ে যাবে! আরও কি সব ব্লা ব্লা ব্লা!
প্রতিমা দাসের খুব রাগ এবং ক্রোধ আছে শেখ হাসিনা এবং আওয়ামীলীগের প্রতি।
যারা বলে, হিন্দুরা আওয়ামিলীগের কেনা গোলাম, আওয়ামীলীগের কাছে দাসখত দেয়া—- তাদের সাথে প্রতিমা দাস সুপ্রীতি ধর প্রমুখদের পরিচয় করিয়ে দিতে ইচ্ছে করে!
সুপ্রীতি ধর, প্রতিমা দাসদের কৈশোর যৌবনকাল কেটেছে জিয়া, খালেদা জিয়ার অপূর্ব প্রেম, খাল কাটা, কালা চশমা পরা জিয়ার পোস্টার দেখে, বেগম জিয়ার দুধে আলতা গায়ের রঙ, লাখ টাকা দামের পাতলা ফিনফিনে ফ্রেঞ্চ শিফন শাড়ির রমরমা দেখে—–
প্রতিমা দাস সুপ্রীতি ধরেরা তখন খেয়ালই করেনি, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে নিষিদ্ধ জামাতকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে এনে প্রসিদ্ধ হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের সংবিধানে বিসমিল্লাহ যোগ করেছে, জিয়াউর রহমান পাকিস্তানে নির্বাসিত যুদ্ধাপরাধীদের প্রধান গোলাম আযমকে পাকিস্তান থেকে ডেকে এনে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আবার ফিরিয়ে দিয়েছে!
জিয়াউর রহমান নিজে মুক্তিযোদ্ধা হয়েও হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা সেনা অফিসারকে ফাঁ সি দিয়েছে, মুক্তিযোদ্ধা হয়েও রাজাকার শিরোমণি শাহ আজিজুর রহমানকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছে!
প্রতিমা দাস সুপ্রীতি ধরেরা বেগম জিয়ার আধুনিক সাজসজ্জায় এতোটাই মোহিত ছিলো, তারা খেয়ালই করেনি বেগম জিয়া রাজাকার আবদুর রহমান বিশ্বাসকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বানিয়েছে, যুদ্ধাপরাধী মতিউর রহমান নিজামী, সাকাচৌকে বাংলাদেশের মন্ত্রী বানিয়েছে, জামাতের সাথে জোটবদ্ধ হয়ে চলেছে, রূপসী খালেদা জিয়ার মুখ থেকেই প্রথম উচ্চারিত হয়েছে, আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশ ভারতের করদ রাজ্য হয়ে যাবে, বাংলাদেশের মসজিদ থেকে আজানের পরিবর্তে উলুধ্বনি শোনা যাবে——
আর তারেক জিয়া? প্রতিমা দাস সুপ্রীতি ধরেরা তারেক জিয়ার চেয়ে বয়সে ছোটো না বড় জানিনা, তবে যেহেতু তাদের কৈশোর যৌবন কেটেছে জিয়া আর বেগম জিয়ার স্বপ্ন দেখে, তাদের মনে থাকার কথা, মায়ের (বেগম জিয়া) প্রধানমন্ত্রীত্বের সুযোগ নিয়ে লেখাপড়া ছেড়ে দিয়ে যুবরাজ তারেক বাংলাদেশের যুবসমাজে কী ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলো।
হাওয়া ভবন, খোয়াব ভবনে কত রঙিন খোয়াবের চাষ হতো!
আওয়ামীলীগের প্রতি, শেখ হাসিনার প্রতি এতটাই বিমুখ আর বেগম জিয়ার মোহিনি রূপে এতোটাই ডুবেছিলো প্রতিমা সুপ্রীতিরা যে, বেগম জিয়ার প্রধানমন্ত্রীত্ব কালে ২০০১ সালে সারাদেশে হিন্দুদের উপর যে অত্যা চার, হ ত্যাকান্ড হলো, লক্ষ লক্ষ হিন্দু রাতের আঁধারে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যেতে শুরু করলো, ২০০৪ সালের ২১শে আগস্টে আওয়ামীলীগের জনসভায় যুবরাজ তারেক জিয়ার গ্রেনেড হামলায় আওয়ামীলীগ নেত্রী আইভি রহমানসহ পঁচিশ জন আওয়ামী নেতা কর্মী সমর্থক তাৎক্ষণিক মৃত্যু ঘটে গেলো– এসব কথা প্রতিমা দাস সুপ্রীতি ধরেরা বেমালুম ভুলে গেছে!
বাংলাদেশের ক্ষমতায় থেকে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী হয়েও বেগম খালেদা জিয়া কেন একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানী জেনারেল জানজুয়া খানের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছিলেন, বেগম জিয়া কেন বরাবর পাকিস্তানী ক্ষমতাসীনদের সাথে রমরমা সম্পর্ক রেখেছিলেন—- এই প্রশ্ন প্রতিমাদের মনে জাগে না!
তারেক জিয়াকে কেন সেনাবাহিনীর কাছে মুচলেকা দিয়ে লণ্ডনে নির্বাসনে চলে যেতে হলো?
২০২৪ এর জুলাইয়ে জামাতের সাথে জোটবদ্ধ হয়ে যুবরাজ তারেক দেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে যে ভয়ঙ্কর অন্যায়ের সাথে ক্ষমতাচ্যুত করেছিলো, তখন আমি বুঝেছিলাম জামাতের পরামর্শে বিএনপির হাতে দেশ থেকে মুক্তিযুদ্ধের সমস্ত অর্জন ধ্বংস হতে চলেছে, প্রতিমা দাস সুপ্রীতি ধরেরা বুঝতে পারেনি— সেটা কি শেখ হাসিনার দোষ!
সুপ্রীতি ধর, প্রতিমা দাসেরা জুলাই সন্ত্রা সকে সেদিন স্বাগত জানিয়েছিলো। সুপ্রীতি ধর তো এক কাঠি উপরে গিয়ে শেখ হাসিনাকে ডা ইনি থেকে শুরু করে কত নোংরা ভাষায় গালি দিয়েছিল। ওদের উন্মাদনা দেখে মনে হতো, শেখ হাসিনাকে বিএনপির হায়েনারা ছিঁড়ে খেয়ে ফেললেই বোধ হয় ওরা খুশি হতো!
এখন সুপ্রীতি ধরেরা ফেসবুকে হায় হায় করে, জামাতকে দোষারোপ করে।
খালেদা জিয়ার অসুস্থতার সংবাদে বিচলিত হয়ে সুপ্রীতি ধর, প্রতিমা দাস খালেদা জিয়াকে নিয়ে সোনালি কাব্য লিখে।
সারাদেশে বিএনপির কর্মী সমর্থকদের হাতে লীগের নেতা কর্মীরা মারা যাচ্ছে, হিন্দুরা মারা যাচ্ছে, হিন্দুদের বাড়িঘর পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে, চিন্ময় প্রভু কারাগারে—- তাতে প্রতিমা দাস সুপ্রীতি ধরদের কোনো হেলদোল নেই!
ওরা সেদিনের গ্রেনেড যুবরাজ তারেক জিয়ার আগমনের অপেক্ষায় দিন গোনে!
আমি রাজনীতি বুঝি না, তাই মাঝে মাঝে প্রতিমা আমাকে বুঝাতে চেষ্টা করে, ” দিদি তুমি কেন বলো, বিএনপির চেয়ে জামাত ভালো! তুমি কি জানো, জামাত ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশটা পুরোপুরি ইসলামিক রাষ্ট্র হয়ে যাবে। এর চেয়ে তারেক জিয়া দেশে ফিরুক। জ
বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের দল (প্রতিমা হয়তো জানে না, মুক্তিযুদ্ধের সময় বিএনপির জন্মই হয়নি)। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশটা ইসলামিক রাষ্ট্র হবে না।
আমি তারপরেও বলেছি, আমি রাজনীতি বুঝি না ঠিক আছে। কিন্তু এটা বুঝি, বিএনপি কোনো রাজনৈতিক দলই না। বিএনপির রাজনীতি হচ্ছে ‘যেন তেন প্রকারেন’ পদ্ধতিতে ক্ষমতায় যাওয়া। এই ‘যেন তেন প্রকারেন পদ্ধতিটি খুবই ভয়ঙ্কর, সকলের জন্য ভয়ঙ্কর। ওরা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য মায়ের শোবার ঘরে খদ্দের ঢুকাতে পারে!
ওরা দিনের বেলা মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে তোমার হাত থেকে মালা নিবে, রাত হলেই তোমাকে ঘরের ভেতর রেখে ঘরের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে ঘরে আগুন লাগিয়ে দিতে পারে।
এইজন্য বিএনপিকে বিশ্বাস করিনা।
জামাতের রাজনীতি স্পষ্ট। ওরা মুখে বলে কম, ওরা যেটুকু বলে সেটাকে সফল করার জন্য সিস্টেমেটিকভাবে কাজ করে যায়।
ওরা হিন্দুবান্ধব নয় এটা আমি জানি। যাকে আমি জানি, যাকে চিনি তার সাথে উঠাবসা করা সহজ।
আনপ্রেডিক্টেবল মানুষের সাথে ওঠাবসা করা সহজ নয়।
যাই হোক, সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে দেশে গণতন্ত্র কায়েম করতে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক স্থাপনের আশ্বাস নিয়ে অবশেষে গ্রেনেড তারেক জিয়া রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা নিয়ে দেশে এলো,
বিশাল মঞ্চে বক্তৃতা দিলো, শহীদ হাদীর জন্য কাঁদলো, দেশের মানুষের হাতে মরে যাওয়া পুড়ে যাওয়া (প্রতিমা দাসের সম্প্রদায়গত ভাই) দীপু দাসের নাম উচ্চারণ করতেই ভুলে গেলো!
মঞ্চে দাঁড়িয়ে বললো, বাংলাদেশে গণতন্ত্র কায়েম করতে সে এসেছে।
মঞ্চ থেকে নেমে বললো, মহানবী (সা.)র মদিনা সনদ অনুযায়ী দেশ চালাবে।
তাহলে জামাত কি দোষ করেছে! জামাতের রাজনীতি তো ইসলাম কায়েম করার কথাই বলে। জামাত তো মঞ্চে দাঁড়িয়েও ইসলামের রাজনীতির কথাই বলে। জামাত তো বিএনপির জিয়া পরিবারের মতো ‘মুখে এক কাজে আরেক’ টাইপ রাজনীতি করে না!
প্রতিমা দাস, এইজন্যই আমি বিএনপির চেয়ে জামাতকে পছন্দ করি।