মোঃ কামরুল ইসলাম টিটু
বাগেরহাট শরনখোলা প্রতিনিধি
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলার লাখো মানুষের অর্ধশতাব্দীর স্বপ্ন, পানগুছি নদীর ওপর একটি সেতু। দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রতিশ্রুতির পরও প্রকল্পটির দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় জনমনে বাড়ছে হতাশা ও ক্ষোভ। এখনো নৌপথ ও ফেরির ওপর নির্ভর করেই চলাচল করতে হচ্ছে স্থানীয়দের। ফলে রোগী পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এবং কৃষিপণ্য আনা-নেওয়ায় প্রতিদিনই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত পানগুছি সেতুর দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ১ দশমিক ৪ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ১০ দশমিক ৩ মিটার। দুই লেনবিশিষ্ট এ সেতুতে থাকবে পৃথক ফুটপাথের ব্যবস্থাও। মূল সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৯২ কোটি টাকা এবং নদী সংরক্ষণ (রিভার প্রোটেকশন ওয়াল) কাজে বরাদ্দ রাখা হয়েছে আরও ৬৫৯ কোটি টাকা।
২০২৩ সালের নভেম্বরে বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন ও নির্মাণ তত্ত্বাবধান সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের পর মাটি পরীক্ষার কাজ শুরু হয়। নদীর দুই তীরেই সম্পন্ন করা হয় ভূতাত্ত্বিক জরিপ। সে সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, প্রাথমিক প্রস্তুতি শেষ হলেই দ্রুত পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হবে প্রকল্প। কিন্তু বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও মূল নির্মাণকাজে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।
প্রকল্পের কনসালটেন্ট হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার KUNHWA, কুয়েতের TAEP এবং বাংলাদেশের BCL Associates Ltd। তবে প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা নিয়ে তাদের পক্ষ থেকেও সাম্প্রতিক সময়ে স্পষ্ট কোনো অগ্রগতি বার্তা পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।
এদিকে পানগুছি সেতুর অগ্রগতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছেন বাগেরহাট-৪ আসনের বিএনপি নেতা ডক্টর কাজী মনির। এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, প্রকল্পের মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ইঞ্জিনিয়ার মোঃ সফিকুল ইসলাম সেতু নির্মাণের বিষয়ে আশাবাদ হারিয়েছেন এবং কয়েক মাস ধরে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনও বকেয়া রয়েছে।
ডক্টর কাজী মনির জানান, প্রকল্প পরিচালক তার সঙ্গে আলোচনায় ২-৩ কর্মদিবসের মধ্যে মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি প্রকল্পের সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি, কুয়েত সরকারের সঙ্গে চুক্তির সময়সীমা বাড়ানো, ইতিবাচক মনোভাবাপন্ন কর্মকর্তা পদায়ন এবং দ্রুত জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি,এসকল কার্যক্রম শেষ হলেই টেন্ডার আহ্বান করা হবে এবং চলতি বছরের শেষ নাগাদ মূল সেতু নির্মাণকাজ দৃশ্যমান হতে পারে।
পানগুছি সেতু বাস্তবায়িত হলে মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলার মানুষের যাতায়াত সহজ হবে, কৃষি ও মৎস্যপণ্য পরিবহন ব্যয় কমবে এবং সুন্দরবন সংলগ্ন পর্যটন শিল্পেও গতি আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও প্রকল্পের অনিশ্চয়তা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, দক্ষিণাঞ্চলের এই জনপদের বহুল কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন কবে বাস্তবে রূপ নেবে?