শাওন বেপারী
শরীয়তপুর প্রতিনিধি
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার মূলনা ইউনিয়নে জানাজার আগে ককটেল বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্কিত হয়ে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে ফজলু রহমান মাদবর (৬০) নামে এক সাবেক ইউপি সদস্যের মৃত্যু হয়েছে।
নিহত ফজলু রহমান মাদবর মূলনা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য। গত মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার ঢোন বোয়ালিয়া এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফজলু রহমান মাদবর তার চাচাতো ভাই কেরামত আলী মাদবরের জানাজায় অংশ নিতে শরীয়তপুর সদর থেকে ঢোন বোয়ালিয়া এলাকায় আসেন। জানাজা শুরুর ঠিক আগে হঠাৎ একটি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় তিনি ভয় ও মানসিক চাপে পড়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে স্ট্রোকে আক্রান্ত হন।
পরে স্বজনরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয়রা জানান, ফজলু রহমান মাদবরের সঙ্গে বিপুল মাদবর গংয়ের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিক মামলা-মোকাদ্দমাও রয়েছে।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, পূর্বশত্রুতার জের ধরে বিপুল মাদবর ফজলু রহমান মাদবরের এলাকায় উপস্থিতির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ককটেল নিক্ষেপ করেন। একই সঙ্গে তিনি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাকে মারধরের উদ্দেশ্যে এগিয়ে আসেন। এতে মুহূর্তেই জানাজাস্থলে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সেই আতঙ্কজনক পরিস্থিতিতেই ফজলু রহমান মাদবর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত বিপুল মাদবর দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এলাকায় ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছিলেন। তিনি ওই এলাকার মোবারক মাদবরের ছেলে এবং সম্পর্কে নিহত ফজলু রহমান মাদবরের আপন ভাইয়ের ছেলে।
স্বজনরা আরও জানান, ফজলু রহমান মাদবরের হৃদযন্ত্রে আগে রিং বসানো হয়েছিল। ফলে তিনি শারীরিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিলেন।
এ বিষয়ে মূলনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আঃ জলিল মাদবর বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছেন।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সালেহ আহম্মদ বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।