মেজর হায়দার বীর উত্তম। পরবর্তীতে লেফটেন্যান্ট কর্নেল। পুরো নাম আবু তাহের মোহাম্মদ হায়দার। পৈতৃক বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার কান্দাইল গ্রামে। তার বোন ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম বীর প্রতীক ছিলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মেডিক্যাল কোরে। তিনিও যোগ দিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধে। বিশ্রামগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধাদের পরিচালিত পাঁচশত বেডের বাংলাদেশ হাসপাতালের কমান্ডিং অফিসার হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন ডা. সেতারা বেগম। ছোট ভাই এটিএম সফদারও ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। এটিএম হায়দারের স্কুল জীবন শুরু হয়, পাবনার বীণাপানি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরে কিশোরগঞ্জ রমানন্দ সরকারি উচ্চবিদ্যালয় (বর্তমানে কিশোরগঞ্জ সরকারি উচ্চবিদ্যালয়) থেকে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট, কিশোরগঞ্জ সরকারি গুরুদয়াল কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ভালো খেলোয়াড়, সাঁতারু ও স্কাউট ছিলেন। উচ্চমাধ্যমিক উত্তীর্ণ হবার পর তিনি পাকিস্তান চলে যান। লাহোর ইসলামিয়া কলেজ থেকে বিএসসি উত্তীর্ণ হয়ে মাস্টার্সের জন্য পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যান বিভাগে ভর্তি হন। এমএ পড়ার সময়ই যোগদেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে। কমান্ডো ব্যাটেলিয়নের একজন সদস্য হিসেবে ১৯৭০ সালে তাকে বদলি করা হয় কুমিল্লায়। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ তিনি পা*লিয়ে ২ নং সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। ২ নং সেক্টরের কমান্ডার খালেদ মোশাররফের সেকেন্ড ইন কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অক্টোবরের ৭ তারিখে খালেদ মোশাররফ ব্রিগেড কে ফোর্সের কমান্ড গ্রহণের পর তিনি সেক্টর কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন। ১৬ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে মেজর হায়দার উপস্থিত ছিলেন। ঐ দিন ঢাকা বেতার ও টিভি থেকে তিনি বিজয়ের ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর কর্ণেল তাহেরের নেতৃত্বে পাল্টা অভ্যুত্থানে নিহত হন লেফটেন্যান্ট কর্নেল হায়দার। আলী আকবর তাবীর লেখা নিবন্ধের বর্ণনা মতে, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সকালে, সে সময় শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত বেঙ্গল রেজিমেন্টের অফিসার মেসে নাস্তা করার সময় মেজর জলিল ও মেজর আসাদের নেতৃত্বে একদল উচ্ছৃঙ্খল সৈনিক তাঁকে জোর করে দেতলা থেকে নিচে নামিয়ে এনে গুলি করে হত্যা করে। অন্যদিকে তার বোন ডা. সিতারা বেগম বীর প্রতীক, ভাই হত্যা এবং কতিপয় উচ্ছৃঙ্খল সৈনিক কর্তৃক অসম্মানজনক আচরণের দুক্ষে স্থায়ী ভাবে দেশ ছেড়ে চলে যান। মহান আল্লাহ যেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল হায়দারকে শহীদের মর্যাদায় বেহেশত নসীব করেন।