লুৎফর রহমান রিটন
নিজন নামের চৌদ্দ বছর বয়েসী এক বালক ৩২এর ধ্বংসস্তুপের স্মৃতিচিহ্ন হিশেবে একটা ইট সংগ্রহ করতে ধানমণ্ডির ঐতিহাসিক বত্রিশ নম্বর বাড়িতে গিয়েছিলো। প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ে আগ্রহী ক্লাশ নাইনে পড়ুয়া ছেলেটার কাছে বত্রিশের একখণ্ড ইটের মূল্য অনেক।
কাজটা ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও ছেলেটা সেখানে গেছে এবং সে তার আরাধ্য অমূল্য ইস্টকখন্ডটি সংগ্রহও করেছে।
মহাঅপরাধী বালকটিকে তাৎক্ষণিক তৎপরতায় পুলিশ গ্রেফতারও করেছিলো। এই গ্রেফতারকাণ্ডে পুলিশের আবেগ কাজ করেছিলো বিবেক কাজ করে নাই।
গ্রেফতারের সময় ছেলেটার ব্যাকপ্যাকে বত্রিশের একখণ্ড ইটের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক একটা গ্রন্থও ছিলো!
(এরকম বিস্ফোরক দুটি বস্তু যে প্রকাশ্যে বহনযোগ্য নয় তা কি ছেলেটা জানতো?)
সোস্যাল মিডিয়ায় পুলিশের এই বীরত্বগাঁথার ব্যাপক সম্প্রচারের পর পুলিশের বিবেক কাজ করা শুরু করে।
তাঁরা ভয়ংকর অপরাধী বালকটিকে পরবর্তীতে একটা মুচলেকায় ‘ভবিষ্যতে আর কখনো ৩২-এ আসবো না’ সূচক বাক্যে সাক্ষর নিয়ে ছেড়েও দিয়েছে!
পুলিশের ভ্যানে বসে ভি চিহ্ন দেখানো ছেলেটার একটা ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক নিন্দা রটে যায় ইনুসের মবসরকারের বিরুদ্ধে। যা সুদখোরের ইমেজের সঙ্গে মানানসই নয়।
নাম নিজন হলেও যাবতীয় নির্জনতা ভঙ্গ করে ছেলেটা এক অভাবনীয় ‘সরবতা’র জন্ম দিয়েছে।
এদিকে গ্রেফতারকাণ্ড থেকে মুক্তি পেয়ে নিজন আরও সরব হয়েছে। একটি ভিডিও বার্তায় নিজন বলেছে–ভবিষ্যতে সে পুনরায় বত্রিশে যাবে!
বত্রিশের ধ্বংসস্তুপ থেকে ফিনিক্স পাখির জন্ম হচ্ছে…।