লুসিড ড্রিম
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতির বিভাজন শুরু হয় সিরাজুল আলম খানকে নিয়ে। ষাটের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত বিভাগে পড়তে এসে বঙ্গবন্ধু ও ছাত্রলীগের প্রেমে পড়েছিলেন।৬৬ থেকে ৬৯ সাল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস পরিবর্তনের ক্যাটালিস্ট ছিলেন সিরাজুল আলম খান। ছাত্রলীগের ইতিহাসের অন্যতম এক জনপ্রিয় নেতা ছিলেন সিরাজুল আলম খান।১৯৭৫ সালের ৭ ই নভেম্বরের অন্যতম পরিকল্পনাকারী ও বলা হয় তাকে।
সিরাজুল আলম খান নক্ষত্রের পতন নাকি আত্মহত্যা ?
১৯৬০ থেকে ১৯৬৩ সাল পর্যন্ত বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক উপ প্রধানমন্ত্রী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ছিলেন। সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বঙ্গবন্ধুর বোনের ছেলে শেখ ফজলুল হক মনি।
১৯৬৩ সালের কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের যে নির্বাচনে থেকে ছাত্রলীগের বিরোধের সুত্রপাত হয় সেই নির্বাচনে বিএনপির সাবেক মহাসচিব কে এম ওবায়দুর রহমান বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে নিশ্চিত হলেও ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়েই মুলত বিরোধের সুত্রপাত হয়।
বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের পছন্দের প্রার্থী ছিলেন সিরাজুল আলম খান । অন্যদিকে শেখ মুজিবের বোনের ছেলে সেই সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় ছাত্রনেতা শেখ ফজলুল হক মনির পছন্দ ছিল ফেরদৌস আহমেদ কোরেশী, যিনি ২০০৭ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়েছিলেন। ফেরদৌস আহমেদ কোরেশীর পক্ষে ছাত্রলীগের সমর্থকরা বেশি থাকলেও কাউন্সিলরদের ভোটে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন সিরাজুল আলম খান। তৎকালীন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও পরবর্তীতে বিএনপি নেতা কে এম ওবায়দুর রহমান ১৯৭০ সালে নৌকার টিকেটে জাতীয় সংসদের এমপি নির্বাচিত হলেও সিরাজুল আলম খান ছিলেন বাংলাদেশ মুক্ত করার দীপ্ত সংগ্রামে অবিচল এক যোদ্ধা।কে এম ওবায়দুর রহমান বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।১৯৭৩ সালের নির্বাচনেও তিনি আওয়ামীলীগের নৌকার টিকেটে এমপি নির্বাচিত হন। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর তিনি বিএনপিতে যোগ দেন।।১৯৭৫ সালে জেল হত্যা মামলার অভিযুক্ত আসামি তিনি।
১৯৬৯ -১৯৭০ সালে ছাত্রলীগের সভাপতি হন তোফায়েল আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক হন আসম আব্দুর রব।১৯৭০ – ১৯৭২ সাল মুক্তিযুদ্ধের এই সময়টায় ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন নুর আলম সিদ্দিকী ও ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন শাহজাহান সিরাজ ( বিএনপির বন ও পরিবেশ মন্ত্রী)
১৯৭২- ১৯৭৩ সালে ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ শহীদুল ইসলাম পরবর্তীতে জাতীয় পার্টির ( মঞ্জুর) সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৭৩ -১৯৭৪ সালে ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন মনিরুল হক চৌধুরী তিনি কুমিল্লা ৯ আসনের বিএনপির এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।সেই কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন শফিউল আলম প্রধান ( পরবর্তীতে বিএনপি নেতা) ।। ১৯৭৩ সালে এই শফিউল আলম প্রধান ছিলেন ডাকসুর নির্বাচনে ছাত্রলীগ ও জাসদ ছাত্রলীগের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টিকারী নেতা। আলোচিত সেভেন মার্ডার মামলায় তিনি আসামী হয়ে কারাবরণ করেন।।
উপরের পরিসংখ্যানগুলো আপনাদের আরও গভীরভাবে বুঝার স্বার্থে দিলাম। সিরাজুল আলম খান কিন্তু বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সাথে আপোস করেননি। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর জিয়াউর রহমানের অবৈধ ক্ষমতা দখল করলে তিনি প্রায় ৫ বছর তথা ১৯৮১ সাল পর্যন্ত কারাগারে ছিলেন। সিরাজুল আলম খান যদি বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত থাকতেন তবে কেএম ওবায়দুর রহমান, শাহজাহান সিরাজ ও শাহ মোয়াজ্জেমদের মত এমপি ও মন্ত্রী থাকতেন।অথচ, এই সিরাজুল আলম খান সম্পর্কে যুগের পর যুগ মিথ্যাচার করা হয়েছে।৭ ই নভেম্বরের সিপাহী জনতা বিপ্লবের নায়ক থেকে তাকে খলনায়ক বানিয়ে কর্ণেল তাহেরকে বিনা বিচারে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে ক্ষমতার পুরো স্বাদ ভোগ করলেন জিয়াউর রহমান।শুধুই দুর্নামের ভাগী হলেন সিরাজুল আলম খান। বঙ্গবন্ধুর সমাজতন্ত্রের বিপরীতে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের স্বপ্ন দেখতে গিয়ে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের খেলার দাবার গুটি হয়ে গেলেন সিরাজুল আলম খান।অথচ মৃত্যুর শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত এই মানুষটি বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসে গেছেন নিরবে।
১৯৬৮ সালে বঙ্গবন্ধু আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্তি পেয়ে দেশে এলে তিনি সিরাজুল আলম খান ও রাজ্জাকের স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদের কথা জানতে পারেন।এই স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদের নেতৃত্বে মুজিব বাহিনী গঠন করে তখন বঙ্গবন্ধুর বোনের ছেলে শেখ ফজলুল হক মনি, আব্দুর রাজ্জাক ও সিরাজুল আলম খানরা যুদ্ধের ট্রেনিং নিচ্ছেন।
১৯৭০ সালের ২১ শে আগষ্ট ছাত্রলীগের বর্ধিত সভায় সিরাজুল আলম খান সমর্থিত স্বপন কুমার চৌধুরী ” স্বাধীন সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ ” নামে একটি প্রস্তাব নিয়ে আসলে ছাত্রলীগের মধ্যে বিতর্কের সুত্রপাত হয়।এই বিষয়ে ভোটাভুটির প্রস্তাব করলে উপস্থিত ৪৫ জনের মধ্যে ৩৬ জন সিরাজুল আলম খানের প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। তখন অবস্থা বেগতিক দেখে তৎকালীন ছাত্রলীগের সভাপতি নুরে আলম সিদ্দিকী বঙ্গবন্ধুর বাসায় গিয়ে বঙ্গবন্ধুকে এই বিষয়ে সব খুলে বললে বঙ্গবন্ধু বিব্রতবোধ করে বলেন, ‘ স্বাধীনতা চাস ভালো, কিন্তু রেজুলেশন দিয়ে তো আর স্বাধীনতা হয় না।গ্রামে যা, কাজ কর।’
পাকিস্তান আর্মির গণহত্যা শুরু হওয়ার পর ভারতের জেনারেল সুজন সিং উবানের সাথে দেখা করে চার যুবনেতা শেখ ফজলুল হক মণি – রাজ্জাক- তোফায়েল- সিরাজ বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স ( মুজিব বাহিনী) গঠন করে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন।এই মুজিব বাহিনীর সংখ্যা ছিল ১০ হাজার। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তাজউদ্দীন আহমদ মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান করলেও সিরাজুল আলম খান ও শেখ মণিরা বঙ্গবন্ধু ছাড়া অস্ত্র জমা দিতে রাজি হলেন না।
১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে ১৫ দফা কর্মসূচির খসড়া নিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান এর সাথে সিরাজুল আলম খানের স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদের একটি বৈঠক হয়। বঙ্গবন্ধু তখন আওয়ামীলীগ নেতাদের অসহযোগিতার উদাহরণ তুলে খুব আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ‘পারলাম নারে সিরাজ’ ।
সিরাজুল আলম খান মনে করতেন , বঙ্গবন্ধুর নামে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। কিন্তু যুদ্ধকালীন সময়ের নেতা হলেন তাজউদ্দীন। বিভিন্ন বিষয়ে বঙ্গবন্ধুর সাথে মতানৈক্য ও দূরত্ব তৈরি হতে হতে সিরাজুল আলম খান তাজউদ্দীনের ঘনিষ্ঠ হন।১৯৭২ সালের পর থেকে স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদের নেতা আব্দুর রাজ্জাকের সাথে সিরাজুল আলম খানের দূরত্ব তৈরি হয় বাম ও অতি বামকে কেন্দ্র করে।তবে তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
১৯৬৩ সালেই সিরাজুল আলম খান যখন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তখন তিনি তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা ও পরবর্তীতে আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রাজ্জাক ও ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি কাজী আরেফকে নিয়ে স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ গঠন করেন। বিপ্লবের রোমান্টিকতায় আঙ্গুল কেটে রক্ত দিয়ে শপথ করেন , ” যতদিন পূর্ববাংলা স্বাধীন না হবে , ততদিন তাঁরা ব্যাক্তিগত সুখ- সুবিধার পেছনে ছুটবেন না, এমনকি বিয়েও করবেন না।”
১৯৬৩ সালে তিনি নিউক্লিয়াস গঠন করেছেন, ১৯৭১ সালে তিনি মুজিব বাহিনী ও বিএলএফ গঠনে ভুমিকা রেখেছেন,জয় বাংলা সামরিক কমান্ড গঠনেও তার ভুমিকা ছিল ।বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ করলেন , তিনি হঠাৎ নতুন দল কেন করলেন? অথচ মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের পর সিরাজুল আলম খান এই বিখ্যাত স্লোগানটি দিয়েছিলেন, বিশ্বে এলো নতুন বাদ – মুজিববাদ , মুজিববাদ। বঙ্গবন্ধু ও তাঁর দর্শনকে খুব ভালোবাসতেন সিরাজুল আলম খান।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই বঙ্গবন্ধুকে হত্যার জন্য আন্তর্জাতিক শক্তি ওৎপেতে ছিল। বঙ্গবন্ধুর সাথে মতবিরোধ হয়ে তৃতীয় পক্ষকে সেই সুযোগটিই এনে দিয়েছিলেন সিরাজুল আলম খান। তাজউদ্দীন আহমেদ অর্থমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় আওয়ামীলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাকে আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক পদটি ছেড়ে দিতে হয়েছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধু তখনও সভাপতি পদ ছাড়েননি।১৯৭২ সালে আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে নিউক্লিয়াসের আব্দুর রাজ্জাকের নাম বঙ্গবন্ধুর কাছে উপস্থাপন করেছিলেন সিরাজুল আলম খান। বঙ্গবন্ধু তখন জিল্লুর রহমানকে আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক করেছেন । দিন দিন সিরাজুল আলম খান ও বঙ্গবন্ধুর মধ্যে বিরোধ বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে সিরাজুল আলম খান তাজউদ্দীন আহমদের বাসায় তার রাজনৈতিক নতুন দল জাসদের প্রস্তাব নিয়ে যান। তাজউদ্দীন সিরাজুল আলম খানকে ফিরিয়ে দিয়ে বলেন, ‘ বঙ্গবন্ধুকে ছেড়ে এখন আর তাঁর কোথাও যাওয়ার উপায় নেই। তবে তিনি সিরাজুল আলম খানদের যতদূর সম্ভব সহযোগিতা করবেন।
১৯৭২ সালের ৩১ শে অক্টোবর সিরাজুল আলম খান ছাত্রলীগের ১৯৭০ এর সাধারণ সম্পাদক আসম আব্দুর রবকে নিয়ে জাসদ নামক নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করলেন। ছাত্রলীগের অসংখ্য মেধাবী নেতারা জাসদে যোগ দিলো। সিরাজুল আলম খানের জনপ্রিয়তা বাড়তে লাগলো। কিন্তু হিমালয় সমান মুজিবের জনপ্রিয়তার কাছে তা কিছুই ছিলো না।
১৭ ই মার্চ জাসদের উদ্যোগে পল্টনে এক জনসভা হয় ।
সেই জনসভা থেকে জাসদ মিছিল করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মনসুর আলীর বাড়ি ঘেরাও করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ গুলি করলে জাসদের কয়েক জন নেতাকর্মী নিহত হয়।এই মিছিলে তৃতীয় পক্ষ ঢুকে যা সুবিধা নেওয়ার নিয়ে গেছে।এরপর থেকে জাসদ আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যায়।এই অরাজকতার সুযোগটাই তখন নিয়ে নেয় স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবির। এমন একটি সুযোগের অপেক্ষায় ছিলো সকল স্বাধীনতা বিরোধীরা। তবুও বঙ্গবন্ধু একটি দিনের জন্য সিরাজুল আলম খানকে গ্রেফতার করার জন্য তার বাসায় পুলিশ পাঠাননি। শেষ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু তাঁর ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে গেছেন। বঙ্গবন্ধু যখন বাকশাল করবেন তখন সিরাজুল আলম খানকে ডেকে পাঠান। বঙ্গবন্ধু বলেন, তিনি একটি জাতীয় দল গঠন করতে চান ।এত দলের দরকার নেই। জবাবে সিরাজুল আলম খান বললেন, এতে তার সম্মতি নেই। বঙ্গবন্ধু আবার বললেন, সবাইকে নিয়ে একটা দল করতে চাই। জলিল ও রবকে তুই আমার দলে দে। সেদিন যদি সিরাজুল আলম খান বঙ্গবন্ধুর কথা শুনতেন তবে হয়তো ১৯৭৫ সালের ১৫ ই আগষ্ট হতো না। আন্তর্জাতিক শক্তির কুটচালে বঙ্গবন্ধু তখন দিশেহারা হয়ে গেছেন। আমেরিকার ষড়যন্ত্রে তাজউদ্দীনকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমেরিকার ফুড পলিটিক্সে ৭৪ এর কৃত্রিম দূর্ভিক্ষ সৃষ্টি করা হলো। সিরাজ শিকদারের সর্বহারাদের দিয়ে দেশে লুটপাট চালানো হচ্ছে।সবদিক থেকে বঙ্গবন্ধু যেন কোনঠাসা হয়ে পড়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে তখন আন্তর্জাতিক শক্তির একের পর এক ষড়যন্ত্র চলছে। পরবর্তীতে তিনিও ১৯৭৪ সালে সভাপতির পদ ছেড়ে দিয়ে আবুল হাসনাত মোহাম্মদ কামরুজ্জামানকে সভাপতি করেছিলেন। কিন্তু ততদিনে অনেক দেরী হয়ে গেছে। তাজউদ্দীন , সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন মনসুর, এইচ এম কামরুজ্জামান কেউই বেঈমানি করেনি। বেঈমানি করেছে বঙ্গবন্ধুর পাশে সবসময় ঘুরঘুর করা খন্দকার মোশতাক, বিএনপি নেতা তাহের উদ্দিন ঠাকুর, বিএনপি নেতা কে এম ওবায়দুর রহমান , শাহজাহান সিরাজ, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন। এরা সবাই ছাত্রলীগের নেতা ছিলো।এই ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।।
ছাত্রলীগে যেমন বেঈমানের জন্ম হয়েছে ঠিক তেমনি আদর্শিক কর্মী তৈরীর কারিগর ছাত্রলীগের সব নেতা বেইমান ছিলেন না। সিরাজুল আলম খান অভিমান করে জাসদ গঠন করলেও মৃত্যুর শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুকে হৃদয়ে রেখেছেন। পরবর্তীতে জাসদের অনেক নেতা হাসানুল হক ইনু, মাঈনুদ্দীন খান বাদল , জাসদের শিরিন আকতার এরা আদর্শিক দ্বন্ধ থেকে আওয়ামীলীগে ফিরে না এলেও দেশ বাঁচাতে মহাজোট করেছেন। সেইদিন যদি সিরাজুল আলম খান বঙ্গবন্ধুর প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে মুজিববাদ প্রতিষ্ঠা করতে বাকশালে যোগ দিতেন, তবে ১৫ ই আগষ্ট হতো না। বিএনপি ও জামায়াতের মত স্বাধীনতা বিরোধী রাজনৈতিক দলের এই দেশের মাটিতে কোনদিন জন্ম হতো না। বিএনপি নামক রাজনৈতিক দলের বাংলাদেশে সৃষ্টিই হতো না।।